বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের খরচের হিসাব

সর্বশেষ আপডেট:

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে যত টাকা রিচার্জ করি তত টাকার বিদ্যুৎ আমরা ব্যবহার করতে পারি না। মিটার ভাড়া, ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ হিসেবে কিছু টাকা কেটে নেয়। সংযোগের প্রকার, সর্বশেষ রিচার্জের সময় ইত্যাদি ভেদে কর্তিত টাকার পরিমাণ ভিন্ন হয়। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জের ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট নয়। যেমন, ১০০০ টাকা রিচার্জে ৮০০ টাকার বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, এ রকম নির্দিষ্ট নয়। তবে সর্বশেষ রিচার্জের সময় জানা থাকলে, ব্যবহারযোগ্য টাকার পরিমাণ হিসেব করে বের করা সম্ভব।

প্রিপেইড মিটার রিচার্জে যেসব চার্জ প্রযোজ্য:

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জে কয়েক ধরনের চার্জ কাটা হয়। যেমন:

  1. মিটার ভাড়া: এটা মিটারের ধারণক্ষমতার উপর নির্ভর করে। যেমন সিঙ্গেল ফেজের মিটারের জন্য গ্রাহককে মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের জন্য মাসে ২৫০ টাকা দিতে হয়। বাসাবাড়িতে সাধারণত সিঙ্গেল ফেজের মিটার ব্যবহৃত হয়।
  2. ডিমান্ড চার্জ: প্রতি মাসে প্রতি কিলোওয়াট ৩০ (ত্রিশ) টাকা। আগে পঁচিশ টাকা ছিলো। যেমন, দুই কিলোওয়াট মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ৬০ (ষাট) টাকা কাটবে।
  3. ভ্যাট: ৫ শতাংশ।

এছাড়া ১% হারে রিবেট প্রদান করে। অন্যদিকে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স ব্যবহার করলে, মিটারে টাকা রিচার্জ করার পর সেটা সমন্বয় করা হয়।

ব্যবহারযোগ্য টাকার পরিমাণ বের করার নিয়ম:

আমি সাধারণত ১০০০ টাকা করে রিচার্জ করি। এপ্রিল ২০২১ এ ১০০০ টাকা রিচার্জ করে ৬০৯.৮৩ টাকা মিটারে যোগ হয়েছে। এতে ৪৭.৬২ টাকা ভ্যাট, ২০০ টাকা মিটার ভাড়া এবং ১৫০ টাকা ডিমান্ড চার্জ হিসেবে কেটে রেখেছে। আর ৭.৪৫ টাকা রিবেট হিসেবে প্রদান করেছে। এসবের হিসাব নিচে দেয়া হলো।

ভ্যাট (৫%): ৪৭.৬২ টাকা

রিচার্জকৃত টাকার পরিমাণকে ৫ দিয়ে গুণ করে ১০৫ দিয়ে ভাগ করলে ভ্যাটের পরিমাণ পাওয়া যায়।

১০০ টাকায় ভ্যাট ৫ টাকা হলে, ১০০০ টাকায় ৫০ টাকা হওয়ার কথা। পরে বুঝলাম আমার হিসাবে সমস্যা হয়েছে। উল্টোভাবে হিসাব মিলাই…

৫০ টাকা ভ্যাট কাটা হলে, আমি সার্ভিস পাচ্ছি ৯৫০ টাকার। ৯৫০ টাকার ৫% হলো ৪৭.৫০ টাকা, ৫০ টাকা নয়। যদি ৫০ টাকা ভ্যাট কাটা হতো তবে ২.৫০ টাকা অতিরিক্ত ভ্যাট হিসেবে কাটা পড়তো।  অর্থাৎ সেক্ষেত্রে ভ্যাটের টাকার উপর আবার ভ্যাট ধার্য হতো, যা স্পষ্টতই ভুল হিসাব। সঠিক হিসাব হলো, যত টাকার সার্ভিস পাচ্ছি এবং সার্ভিসের মূল্যের ৫% ভ্যাট মিলিয়ে ১০০০ টাকা হবে। এখন বীজগণিতের সাহায্যে হিসাব করি।

ধরি, আমি x টাকার সার্ভিস পাচ্ছি।
তাহলে, x + (x এর 5%) = 1000
=> x + (5x/100) = 1000
=> 105x/100 = 1000
=> x = 952.38
অর্থাৎ, আমি ৯৫২.৩৮ টাকার সার্ভিস পাবো।
আর ভ্যাট হবে (১০০০ – ৯৫২.৩৮) = ৪৭.৬২ টাকা

আবার, পাটীগণিতের সাহায্যে ঐকিক নিয়মেও হিসাবটি করতে পারি।
১০০ টাকা সার্ভিসে ভ্যাট ৫ টাকা
সার্ভিস ও ভ্যাট মিলিয়ে ১০৫ টাকা হলে, ভ্যাট ৫ টাকা
১ টাকা হলে ভ্যাট ৫/১০৫ টাকা
১০০০ টাকা হলে ভ্যাট ৫ * ১০০০ / ১০৫ টাকা
= ৪৭.৬১৯০৪৭… টাকা
≈ ৪৭.৬২ টাকা এবং সার্ভিস = (১০০০ – ৪৭.৬২) = ৯৫২.৩৮ টাকা

মিটার ভাড়া (৳৪০/মাস): ২০০ টাকা

যত মাসের মিটার ভাড়া বাকি, সেটাকে ৪০ দিয়ে গুণ করতে হবে।

কেউ যদি মাসে একাধিকবার রিচার্জ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে শুধু প্রথমবার রিচার্জে ঐ মাস পর্যন্ত বকেয়া মিটার ভাড়া কাটবে। পরবর্তী রিচার্জগুলোতে কোনো মিটার ভাড়া কাটবে না।

আমি সর্বশেষ রিচার্জ করেছিলাম ২০২০ সালের নভেম্বরে। অর্থাৎ নভেম্বর পর্যন্ত মিটার ভাড়া পরিশোধ করা ছিলো। এরপর আমার আর রিচার্জ করার প্রয়োজন পড়েনি। এতে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল – এই পাঁচ মাসের মিটার ভাড়া বকেয়া হয়েছে। তাই এই রিচার্জে পাঁচ মাসের মিটার ভাড়াটাও কেটে রেখেছে।

ডিমান্ড চার্জ (প্রতি কিলোওয়াট ৳৩০/মাস): ১৫০ টাকা

মিটারটি যত কিলোওয়াটের, সেটাকে ৩০ দিয়ে গুণ করতে হবে। এই গুণফলকে আবার যতো মাসের ভাড়া বাকি, ততো দিয়ে গুণ করতে হবে।

আমার মিটারটি এক কিলোওয়াটের। মাসে ৩০ টাকা করে পাঁচ মাসের ডিমান্ড চার্জ কেটেছে ১৫০ টাকা। আগে মাসিক ২৫ টাকা হিসেবে কাটতো।

কেউ যদি মাসে একাধিকবার রিচার্জ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে শুধু প্রথমবার রিচার্জে ঐ মাস পর্যন্ত বকেয়া ডিমান্ড চার্জ কাটবে। পরবর্তী রিচার্জগুলোতে কোনো ডিমান্ড চার্জ কাটবে না।

রিবেট (১%): -৭.৪৫ টাকা

রিচার্জকৃত টাকার পরিমাণ হতে ভ্যাট ও মিটার ভাড়া বিয়োগ করতে হবে। বিয়োগফলকে ১০১ দিয়ে ভাগ করলে রিবেটের পরিমাণ পাওয়া যাবে।

যেমন, আমার ক্ষেত্রে, রিচার্জ করেছি ১০০০ টাকা। মিটার ভাড়া ২০০ ও ভ্যাট ৪৭.৬২ বাদে অবশিষ্ট থাকে ৭৫২.৩৮ টাকা। এটাকে ১০১ দিয়ে ভাগ করলে পাই ৭.৪৪৯৩০৬… বা ৭.৪৫ টাকা (প্রায়)। রিবেটের টাকাটা হিসেবে যোগ হবে।

শেয়ার, কমেন্ট, মেইল বা প্রিন্ট করুন

2 thoughts on “বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের খরচের হিসাব

Leave a Reply