রান্নায় গ্যাসের ফলপ্রসূ ব্যবহার

সর্বশেষ আপডেট:

আমরা যারা সিলিন্ডার গ্যাস অর্থাৎ Liquefied Petroleum Gas (LPG) ব্যবহার করি তারা গ্যাসের খরচ কমানোর বিভিন্ন উপায় খুঁজি। আমাদের জন্যে স্বল্প গ্যাসে ও স্বল্প খরচে রান্না করাটা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। অথচ একটু সাবধান হলেই বাড়তি গ্যাসের অপচয়টা কমিয়ে ফেলতে পারি। সেই সাথে কমিয়ে ফেলতে পারি সিলিন্ডার গ্যাসে রান্নার খরচ। তাহলে চলুন জেনে নিই রান্নাঘরে গ্যাসের ব্যবহার ও খরচ কমানোর কিছু উপায়।

রান্নাপূর্ব করণীয়:

  • ফ্রিজের জিনিসপত্র স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে তারপর রান্না করা।
    ফ্রিজ থেকে বের করেই রান্না করলে খাবার গরম হয়ে সিদ্ধ হতে বেশি গ্যাস খরচ হবে। তাই রান্নার আগে ফ্রিজ থেকে বের করে ডিফ্রস্ট করে রাখতে হবে।
  • ভিজিয়ে রাখার পর রান্না করা।
    যেমন- ডাল ভিজিয়ে রেখে তারপর রান্না করলে তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হবে। কমবে গ্যাসের ব্যবহার।
  • জিনিসপত্র রান্নার জন্য প্রস্তুত করার পর রান্না শুরু করা।
    যেমন- শাকসবজি কেটে রেখে তারপর রান্না শুরু করা।
  • হাতের নাগালের কাছে সবকিছু রাখা।
    রান্না শুরুর আগেই হাতের নাগালে সব দরকারি জিনিসপত্র রেখে দিতে হবে। অনেকসময় চুলা জ্বালিয়ে তারপর সবজি কাটা, থালা-বাসন খোঁজা, রান্নার পাত্র খোঁজা শুরু করেন অনেকে। এতে করে খরচ হয় অনেকখানি বাড়তি গ্যাস।
  • উপযুক্ত আকারের পাত্র ব্যবহার করা।
    রান্নার পাত্র যেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বড় না হয়।
  • প্রেসার কুকার ব্যবহার করা।
    রান্না করার পাত্র হিসেবে বেছে নেয়া যায় প্রেসার কুকারকে। এতে সময় বাঁচার পাশাপাশি গ্যাসও বেঁচে যাবে অনেকটা।
  • শুকনো পাত্র ব্যবহার করা।
    রান্না শুরু করার সময় খেয়াল রাখতে হবে রান্নার পাত্র শুকনো আছে নাকি ভেজা। কারণ অধিকাংশ সময়েই এক্ষেত্রে পাত্রটি থাকে ভেজা আর সেটা শুকাতে গিয়ে খরচ হয়ে যায় অনেকখানি গ্যাস।
  • ছোট টুকরা করে রান্না করা।
    মাংস, আলু বা অনান্য সবজি যথাসম্ভব ছোট ছোট টুকরা করে রান্না করলে দ্রুত সিদ্ধ হয়। ফলে গ্যাস কম খরচ হবে ।

রান্নাকালীন করণীয়:

  • ঢেকে রান্না করা।
    রান্না করার সময় ঢাকনা লাগিয়ে রান্না করতে হবে। এতে করে বাষ্প ভেতরে জমবে। রান্না হবে তাড়াতাড়ি। গ্যাস বাঁচবে।
  • মাটির খুরা কিংবা কাচের ঢাকনা ব্যবহার করা
    এগুলোর মধ্য দিয়ে তাপ কম বেরোতে পারে। ফলে রান্নার পাত্র কম গ্যাসেই গরম হতে পারে। আবার ভাতের ফেন উঠলে অ্যালুমিনিয়ামের পাতলা ঢাকনা পরে যায়। সেক্ষেত্রে মাটির খুরা ব্যবহার করা যায়।
  • প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করা।
    প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা যাবে না, তা না হলে ঐ পানি কমানোর জন্য অতিরিক্ত গ্যাস খরচ হবে। তরকারিতে ঠিক ততটুকু পানি দিতে হবে যতটা দরকার। কারণ বেশি পানি দিলে তাতে করে সেটা শুকাতে এবং রান্না হতে সময় নেয়। ফলে গ্যাস খরচ হয়।
  • চুলার আঁচ কমিয়ে দেয়া।
    রান্নার পুরোটা সময় জ্বালের মাত্রা এক থাকার দরকার নেই। তাই বাসন গরম হয়ে যাওয়ার পর এবং পানি ফোটা শুরু হলে আঁচ কমিয়ে দেয়া যায়। কম আঁচে রান্না করলে গ্যাস কম খরচ হবে।
  • ভাঁপে রান্না করা।
    পরিপূর্ণ রান্না হবার অল্প সময় পূর্বেই চুলা বন্ধ করে দেয়া যায়। ঢেকে রাখলে ভাঁপে বাকি রান্না হয়ে যাবে।
  • বেশি জ্বাল-দেয়া (Overcooking) পরিহার করা।
  • সময় জেনে এবং সময় ধরে রান্না করা।
    যেমন- পানি ফোটার পর দশ মিনিট রাখলেই ডিম সিদ্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় সিদ্ধ করা গ্যাস অপচয়েরই নামান্তর।
  • ঝড়ো হাওয়া এড়িয়ে চলা
    রান্নাকালীন বাতাসের ঝাপটা লাগলে চুলার তেজ কমে যায়। এতে গ্যাস অপচয় হওয়ার পাশাপাশি রান্না শেষ হতেও দেরি হয়। তাই বাতাসের বেগ থাকলে, চুলাটা বাতাস থেকে আড়াল করে রান্না করা উচিত।

রান্না-পরবর্তী/অন্যান্য:

  • চুলা পরিষ্কার রাখা।
  • পানি গরম করার জন্য ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা।
  • থার্মোফ্লাস্ক ব্যবহার করা।
    যদি বেশি চা, কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে বার বার গ্যাস ওভেনে পানি গরম না করে থার্মোফ্লাস্ক ব্যবহার করা যায়। একইভাবে শীতকালে গরম পানির জন্যে থার্মোফ্লাক্স ব্যবহার করা যায়।
  • একসাথে গরম করা।
    ফ্রিজের খাবার গরম করার ক্ষেত্রে, পাত্রগুলো একটার উপর আরেকটা রেখে একসাথে গরম করা যায়। এতে করে অল্প গ্যাসে সব খাবার গরম করা যাবে। আবার নতুন রান্নাকরা গরম পাতিলের উপর ঠাণ্ডা খাবারের পাত্র রেখে দিলে ঐ তাপেই ঠাণ্ডা খাবার গরম হয়ে যাবে। ভাতের ক্ষেত্রে, গরম ভাতের উপর ঠাণ্ডা ভাত ছড়িয়ে পাতিল ঢেকে দিতে হবে।
  • গ্যাস-লাইন চেক করা।
    নিয়মিত গ্যাস রেগুলেটর, পাইপ চেক করতে হবে। অনেক সময় সামান্য লিক থেকে গ্যাস নষ্ট হয়। রান্না হয়ে গেলে অবশ্যই সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করে রাখতে হবে।
শেয়ার, কমেন্ট, মেইল বা প্রিন্ট করুন

Leave a Reply