স্বপ্নের পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। এটি একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সিগঞ্জের সাথে শরিয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হয়েছ, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সরাসরি সংযোগ ঘটেছে। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির (truss bridge) ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ রয়েছে। সেতুটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষসহ গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী অধ্যায় রচিত হবে। জাতীয় অর্থনীতির চাকায় গতি বাড়বে।

এক নজরে পদ্মা সেতু:

নকশাকারAECOM
মূল সেতু নির্মাণকারীচায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিঃ (MBEC), চীন
নদী শাসনের কাজসিনো হাইড্রো করপোরেশন, চীন
মোট স্প্যান৪১টি
প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য১৫০ মিটার
মোট পিলার৪২টি। এর মধ্যে ৪০টি নদীতে। দুটি নদীর তীরে।
সেতুর মোট দৈর্ঘ্য৬.১৫ কিলোমিটার
সেতুর প্রস্থ১৮.১০ মিটার
স্তর/তলাবাংলাদেশের প্রথম দ্বিতল সেতু। ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ রয়েছে।
সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন (KEC), দক্ষিণ কোরিয়া।
দুই প্রান্তের সংযোগ স্থানমাওয়া (লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ) এবং জাজিরা (শরীয়তপুর)
ভূমিকম্প সহনীয় মাত্রারিখটার স্কেলে ৯ মাত্রা।
প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয়১০,১৬১.৭৫ কোটি টাকা। (২০০৭ সালে প্রকল্প অনুমোদনের সময়)
৩০,১৯৩.৩৯ কোটি টাকা। (২০১৮ সালের সংশোধিত প্রাক্কলন)
প্রকৃত ব্যয়

পদ্মা সেতুর ঘটনাপ্রবাহ:

৪ জুলাই ২০০১প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মাওয়া পয়েন্টে প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
সেপ্টেম্বর ২০১১দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত করে
২৯ জুলাই ২০১২বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয়
১৮ জুন ২০১৪মূল সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার।
৭ ডিসেম্বর ২০১৪পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু।
১২ ডিসেম্বর ২০১৫প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭কানাডার আদালতে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়। জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নং খুঁটির ওপর পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়।
২৭ জানুয়ারি ২০১৮পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান বসানো হয় ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুঁটিতে।
১১ মার্চ ২০১৮পদ্মা সেতুর তৃতীয় স্প্যান বসানো হয় ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটিতে।
১৩ মে ২০১৮পদ্মা সেতুর চতুর্থ স্প্যান বসানো হয় ৪০ ও ৪১ নম্বর খুঁটিতে।
২৯ জুন ২০১৮পদ্মা সেতুর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয় ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটিতে। জাজিরা প্রান্তের তীর স্পর্শ করে।
১৪ অক্টোবর ২০১৮‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ’ প্রকল্প উদ্বোধন।
১০ ডিসেম্বর ২০২০পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যান, অর্থাৎ ৪১ তম স্প্যান বসানো হয় ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটিতে। এর মাধ্যমে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পুরো পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়।
শেয়ার, কমেন্ট, মেইল বা প্রিন্ট করুন

Leave a Reply